গাইবান্ধা পাউবোতে কোটি টাকার ভাগ-বাটোয়ারা


জরুরি কাজের নামে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লুটপাট ও ভাগাভাগি হয়ে গেছে। বাঁশ ও চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ব্যবহার করা হলেও তা ২৪ ঘণ্টায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিরোধের নামে সকল সরঞ্জাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিন্তু বিলের ক্ষেত্রে কোনো অবহেলাই হয়নি। রাতারাতি ঠিকাদার বিলের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানিসহ সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া পর্যন্ত অন্তত ৪৫টি স্পটে নদীর ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এক দিনেই অন্তত ৩ শতাধিক কাঁচাপাকা বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ব্রহ্মপুত্র নদের ব্যাপক ভাঙনের কাছে টিকতে না পেরে এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে পাউবো কর্তৃপক্ষ স্থানীয় এক নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মতিয়ার মেম্বারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।

দরপত্র আহ্বানের আগেই চেয়ারম্যান প্রার্থী ও প্রভাবশালী মতিয়ার মেম্বারের মাধ্যমে কামারজানি বন্দরের পাশে গো-ঘাট নামের গ্রাম রক্ষায় প্রতিরোধমূলক কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়। তিনি পাউবো কর্মকর্তার যোগসাজশে ভাঙন রোধের নামে বাঁশের চাটাই ও বাঁশ দিয়ে বেড়া দেন। যা স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ করার জন্য পাউবোর কাছে অভিযোগ দায়ের করলেও কোনো কর্ণপাত করেনি।

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সালাম জাকির বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন কখনো বাঁশ ও চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে প্রতিরোধ সম্ভব নয়। কিন্তু দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা ও ঠিকাদার নামের মতিয়ার মেম্বারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে টেন্ডার ছাড়াই তাকে বাঁশ দিয়ে নদী ভাঙন ঠেকানোর জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। এই টাকায় লোক দেখানো কাজ করেন ছোট-বড় বাঁশ দিয়ে আর চাটাই দিয়ে বালির বস্তা ফেলানো।

এলাকাবাসী ময়নুল ইসলামের অভিযোগ বাঁশ ১৫ থেকে ১৮ ফিট পানির নিচে বসানোর নিয়ম থাকলেও বাঁশ বসানো হয় মাত্র ৬ থেকে ৭ ফিট গভীরে। আর এ কারণে বাঁশের খুঁটি ও চাটাইয়ের বেড়া সহ স্রোতের টানে কাজের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সঙ্গে আবার নতুন করে শুরু হয় ভয়াবহ ভাঙন। ভাঙনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮০টি পাকা- আধাপাকা বাড়ি, একটি মন্দির সহ ৫ শতাধিক বাড়িঘর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। তারপরও মতিয়ার মেম্বার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিলের প্রায় ১ কোটি টাকা তুলে ভাগাভাগি করে নিয়েছে।

এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও সেলিম মিয়া জানান, কাজ যথারীতি হয়েছে কিন্তু বাঁশ ও চাটাইয়ের কাজে একটু সমস্যা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে স্রোতের টানে সেগুলো ভেসে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম জানান, কাজ হয়েছে। কিন্তু এতো স্রোতের কাছে সব কাজ ভেস্তে গেছে। ভাঙন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

--- মানবজমিন

No comments

Theme images by A330Pilot. Powered by Blogger.