বর্ধন কুঠি গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা


এইতো ৭০ বছর আগেও গোবিন্দগঞ্জের বর্ধন কুঠি ছিল জমজমাট রাজবাড়ি। পায়েক-পেয়াদা, হাতি-ঘোড়া, সৈন্য-সামন্ত সব ছিল। অন্দর মহলে ঐশ্বর্য, সুন্দরীদের নিক্কন আর সুন্দরের ছড়াছড়ি। ঐশ্বর্য আর ক্ষমতাবান রাজাদের হাতে অগাধ সময় ছিল জীবনকে উপভোগ করার। এখন এটি আর শহর নেই, শহরতলী সাধারণ গ্রাম। দোতালায় যেখানে বসে রানী তার লম্বা এলোচুল শুকাতেন, সেটি যেকোনো সময় ভেঙ্গে পরবে। সদাব্যস্ত কাচারিঘরে এখন সাপ-খোপের আড্ডা।


বর্ধন কুঠির আদি নাম বর্ধন কোট, কাল-ক্রমে এর নাম পরবর্তীতে বর্ধন কুঠি হয়েছে। এখানে কাছকাছি বেশ কয়েকটি ভবন, অধিকাংশই দ্বিতল। ৩টা ভবনের ভেতরে ঝুঁকি নিয়ে প্রবেশ করা যায়।



বাকিগুলো এতো জংলা যে প্রবেশ উপযোগী নয়। ছাদ নির্মাণে মুলত ইটের খিলান (brick vault) ব্যবহার করা হয়েছে। ইটের খিলানের ছাদের জন্যই এ রাজবাড়ির প্রাচীনত্ব উপলব্ধ করা যায়। দরজাগুলোও খিলান আকৃতির।



একটি ভবন ছাড়া অন্য কোনো ভবনে জানালা নেই। জানালা যুক্ত ভবনটি খুব বেশী পুরাতন নয় এবং সম্ভবত, ছাদে বীম ব্যবহার করা হয়েছিল। জানালা বিহীন একটি ভবনের একটি কক্ষে গম্বুজ আকৃতির বায়ুরন্ধ্র (ventilator) চোখে পড়েছে।



ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্তির সময় বর্ধনকুঠির সর্বশেষ রাজা শৈলেশ চন্দ্র বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যান। রাজা শৈলেশ চন্দ্রের নাতি সঞ্জীব রায় ও তাঁর পরিবার বর্তমানে ভারতের পশ্চিম বাংলার হুগলিতে থাকেন। সঞ্জীব রায় কর্তৃক প্রকাশিত কিছু ছবি এখানে সংযোজন করলাম।



প্রাচীন কাল থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাধীন বর্ধন কুঠিতে তৎকালীন রাজাদের গূরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দলের ঘাঁটি ছিল। এ কুঠি এক সময় এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পরগানা ইদ্রাকপুরের সদর দফতর ছিলো। ইংরেজ আমলে বর্ধন কুঠি জমিদার বাড়ি হিসেবে খ্যাতি পায়। ইংরেজদের সাথে সখ্যতার কারণে বর্ধন কুঠিরের জমিদাররা বেশ খ্যাতিমান ও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিলেন।



যেভাবে যাবেন : বর্ধনকুঠি রাজবাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। গোবিন্দগঞ্জ থেকে অটো রিকশা অথবা রিকশায় করে বর্ধনকুঠিতে যাওয়া যায়। 

No comments

Theme images by A330Pilot. Powered by Blogger.